Address: Shushilan, House # 155, KDA Jalil Sharoni, Commercial cum Residential Area, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000, Bangladesh.

পিঠা উৎসব ও খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণ—২০২৬

Posted on: April 26, 2026, 5:36 pm



পিঠা উৎসব ও খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণ—২০২৬
প্রতিবেদন
তারিখ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬                                                                          স্থান: সুশীলন,প্রধান কার্যালয়, খুলনা

ভূমিকা
নতুন বছরের প্রথম প্রভাত মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা এবং নতুন করে পথচলার অঙ্গীকার। সেই আবেগ ও প্রত্যাশাকে হৃদয়ে ধারণ করে এবং বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের এক অনন্য অংশ—পিঠা সংস্কৃতিকে উদযাপন করতে “পিঠা উৎসব ও খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণ—২০২৬” শীর্ষক এক বর্ণিল ও প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুশীলন পরিবার। 
পিঠা উৎসব মানেই খেজুরের রস, নারকেল, গুড় ও চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি সুস্বাদু পিঠার সমাহার—চিতই, ভাপা, পুলি, দুধ পলি—যা শুধু স্বাদের নয়, বরং শৈশবের স্মৃতি, গ্রামীণ জীবনের আবেগ এবং পারিবারিক উষ্ণতার প্রতীক।
এই আয়োজন ছিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সহকর্মীদের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক অনন্য মিলনমেলা। উল্লেখযোগ্যভাবে, সারা দেশের ১৪টি অফিসে একযোগে এই পিঠা উৎসব উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা
দুপুর ২:৩০ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীত ও সুশীলন সঙ্গীতের  মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ইভেন্টের টিম লিডার ও উপ—পরিচালক শিরীনা আক্তার সকলকে খ্রিষ্টীয় নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে নতুন বছরকে ইতিবাচকতা, সহমর্মিতা ও সাফল্যের বার্তায় বরণ করার আহ্বান জানান। তাঁর আন্তরিক বক্তব্য মুহূর্তেই পরিবেশকে আবেগময় করে তোলে।
পরবর্তীতে শ্রদ্ধেয় নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান নিজ রচিত ও সুরারোপিত গান পরিবেশন করে এবং ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে পিঠা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তাঁর বক্তব্যে পিঠা উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ও পারস্পরিক বন্ধনের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও অংশগ্রহণ
কালচারাল টিম ম্যানেজার রিমা আক্তারের নেতৃত্বে উপকূলবন্ধুর লেখা একটি দলীয় গান পরিবেশন করা হয়। সকলের সম্মিলিত কণ্ঠে সেই গান যেন একাত্মতার সুরে পরিণত হয়। গানগুলোর প্রতিটি শব্দে ছিল উৎসবের আনন্দ, ভালোবাসা ও নতুন দিনের প্রত্যাশা, যা উপস্থিত সকলকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। 
পিঠা উৎসবের প্রাণবন্ত পর্ব
“উপভোগ করি—প্রকল্প অফিসের পিঠা উৎসব” পর্বে শুরু হয় মূল উৎসবের আনন্দ। প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রকল্প অফিস তাদের নিজ নিজ আয়োজন উপস্থাপন করে। 
তড়ড়স খরহশ: যঃঃঢ়ং://ুড়ড়স.ঁং/ল/২১১১১৯৯১২৩?ঢ়ফি=ঠষঋওগউঋংফুঠশফটপ০ঞলফড়তসত২তএষণতু০৯
গববঃরহম ওউ: ২১১ ১১৯ ৯১২৩
চধংংপড়ফব: ঝযঁংযরষধহ%
ঢাকা,গলাচিপা,  নড়াইল, কালিয়া, উখিয়া, মহেশখালী, চরফ্যাশন, ভোলা সদর, লালমোহন, কালিগঞ্জ আঞ্চলিক অফিস,  বাগেরহাট, মোংলা, দেবহাটা, মুন্সীগঞ্জ, , কক্সবাজার সহ ১৫টি এলাকায় পিঠার বাহারি আয়োজন দেখা যায়। বিশেষভাবে দেবহাটা অফিসে ৭০টিরও বেশি প্রকারের পিঠা প্রস্তুত করা হয়, যা সবার প্রশংসা কুড়ায়।
এই আয়োজন যেন শুধু খাবারের নয়, বরং স্মৃতি, সংস্কৃতি ও আবেগের এক মিলনমেলা। 
প্রধান কার্যালয়ে স্টল পরিদর্শন 
প্রধান কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সুবর্ণ রেখা প্রাঙ্গণে সাজানো হয় ৫টি পিঠার স্টল যা চমৎকার নামকরন করা হয় ১)পিঠার সাথে মধুময় ২) স্বাদ বাহন ৩) পিঠা মহল ৪) সু—স্বাদ ৫) টইটম্বুর রসে রসে পিঠা খাবো গৃহে বসে ও ১টি কফি কর্নার। সহকর্মীরা নিজেরাই পিঠা তৈরি ও উপস্থাপনায় অংশ নেন, এমনকি তাদের পরিবারের শিশুরাও এতে যুক্ত হয়ে পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।স্টল পরিদর্শনকালীন সময়ে বাঙালীর সংস্কৃতির অংশ বিভিন্ন পিঠার বর্ননা ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে যা সকলের মন ছঁুয়ে যায়, সকলকে পরিবারের ছোট বেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
চেয়ারপার্সন শেখ আমিরুল ইসলাম এবং টিম লিডার শিরীনা আক্তার নির্বাহী প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে স্টলসমূহ পরিদর্শন ও উদ্বোধন করেন। প্রতিটি স্টলের সৃজনশীলতা, বৈচিত্র্যতা ও উপস্থাপনা দেখে তিনি  মুগ্ধ হন, সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
উন্মুক্ত পিঠা উপভোগ পর্ব
“এসো পিঠা খাই” পর্বে সকলের জন্য উন্মুক্তভাবে পিঠা পরিবেশন করা হয়। নির্বাহী প্রধান নিজেও সবার সঙ্গে পিঠা উপভোগ করেন।
সহকর্মীরা পরিবার—পরিজন, বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আনন্দঘন এই পর্বে অংশগ্রহণ করেন। হাসি, গল্প, আলাপচারিতা এবং সুস্বাদু পিঠার স্বাদে পুরো পরিবেশ প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। 
অনুভূতি বিনিময়
অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন পর্ব ছিল অনুভূতি বিনিময়। অংশগ্রহণকারীরা তাদের আনন্দ, স্মৃতি ও কৃতজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করেন। কারো কণ্ঠে ফিরে আসে শৈশব, কারো কথায় ফুটে ওঠে ভবিষ্যতের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এটি ছিল হৃদয়স্পর্শী এক মুহূর্ত। 


পিঠা স্টলের প্রতিযোগীতা:
পিঠা স্টল পরিদর্শনের ভিত্তিতে বিচারকরা সেরা স্টল নির্বাচন করেন “পিঠার সাথে মধুময়” এবং পুরস্কার প্রদান করা হয়। উক্ত স্টলের নেতৃত্ব দেন শারমিন আক্তার ময়না, এ২্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিন ম্যানেজার। এই প্রতিযোগিতা আয়োজনে উৎসবের আনন্দকে আরও বেগবান করে তোলে।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
সাংস্কৃতিক পর্বে ছোট্ট সোনামনি রূপকথা ও রূপন্তী নৃত্য পরিবেশন করে সকলকে মুগ্ধ করে। এরপর শুরু হয় “উপকূলবন্ধুর একক সংগীত পরিবেশনা”।
নিজের লেখা ও সুর করা গানসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে তিনি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন। তাঁর গানে উঠে আসে উপকূলীয় জীবনের গল্প, সংগ্রাম ও ভালোবাসা—যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
সমাপনী পর্ব
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে টিম লিডার সকলের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চেয়ারপার্সন তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন—এ ধরনের সম্মিলিত আয়োজন একটি প্রতিষ্ঠানকে পরিবারে পরিণত করে এবং ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।তিনি তার বক্তব্যে  অনুপ্রেরণা, কৃতজ্ঞতা এবং একসাথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপসংহার
“পিঠা উৎসব ও খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণ—২০২৬” ছিল শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি ছিল হৃদয়ের এক মিলনমেলা, যেখানে আনন্দ, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও ভালোবাসা একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।
এই আয়োজন প্রমাণ করেছে যে, পারস্পরিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ একটি প্রতিষ্ঠানকে কর্মক্ষেত্রের সীমা ছাড়িয়ে একটি পরিবারে রূপান্তরিত করতে পারে।
নতুন বছরের এই সূচনায় এমন প্রাণবন্ত ও আবেগঘন উদ্যোগ সুশীলন পরিবারের সবার মনে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে।

প্রস্তুতকারী:
শিরীনা আক্তার
উপ—পরিচালক ও প্রধান জেন্ডার সেল এবং
টীম লিডার, পিঠা উৎসব ও খ্রিষ্টীয় বর্ষবরন ইভেন্ট